seo

শখের স্কুলের বন্ধুদের জন্য আজকে থাকছে একটি সহজ অথচ খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়। সেটি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন । সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের শুরুর এ পর্বটিতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন। সেই সাথে এর খুঁটিনাটি তুলে ধরার চেষ্টা করবো। চলুন শুরু করা যাক-

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা সংক্ষেপে এস,ই,ও হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেজকে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের সার্চ বা অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের তালিকার প্রথম দিকে দেখানো। আরো সহজভাবে বলতে গেলে- আমরা যখন গুগল,ইয়াহু কিংবা বিং সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিছু লিখে সার্চ করি, তখন সার্চ ইঞ্জিন গুলো এ সমস্ত তথ্য ধরে রেখে ওয়েবের দুনিয়ায় যত সাইট আছে সে সমস্ত সাইটকে তাদের তথ্য উপাত্ত অনুসারে একটি  র‍্যাংক প্রদান করে। সাইটের অভ্যন্তরীণ ভুল  ত্রুটি এবং তথ্য সমূহ যাচাই করে রেজাল্ট পেজের শুরুতে প্রদর্শন করানোই সার্চ ইঞ্জিনের কাজ। আর সার্চ ইঞ্জিন যাতে আমাদের সাইটটিকে শুরুর দিকে অবস্থান দেয় , সেই অনুযায়ী কাজ করাই হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন  এর প্রধানতম কাজ।

shokher school

স্বভাবতই মনের মধ্যে ইশফিস করছে কি করলে আমাদের সাইটটিকে শুরুর দিকে অবস্থান দিবে বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর দরকার টাই বা কি?

আমি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ইতিহাসে যাবো না , কেননা আপনারা তা সার্চ করেই জানতে পারবেন। শুরুর দিকে এর উপকারিতা সম্পর্কে বলি! ধরুন, আপনি কোন নির্দিষ্ট একটি বিষয় গুগল সার্চ বারে লিখে সার্চ করছেন। খেয়াল করে দেখলে দেখবেন আপনার সার্চ বারে কয়েক লক্ষ রেজাল্ট শো করছে। আপনি কোন গুলো দেখবেন। অবশ্যই প্রথম পেজ, দ্বিতীয় কিংবা বড় জোর তৃতীয়। আর যদি রিসার্চ কিংবা থিসিস রিলেটেড কিছু হয় তাহলে আরো দু’এক পেজ বেশি আর কি! তাহলে লক্ষ লক্ষ পেজ থেকে আপনি শুধু কয়েকটি পেজ থেকেই আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয় পেয়ে যাচ্ছেন। এখন বিষয়টিকে ব্যবসায়িক আঙ্গিকে চিন্তা করে দেখুন তো! ধরুন, আপনার একটি দোকান আছে কিন্তু সেটিতে কেউ আসলো না। কেউ যদি নাই বা আসে তাহলে আপনার বিক্রি হবে? আপনি যতই ভালো প্রোডাক্ট দিয়ে দোকান টি ভরে রাখুন না কেন আপনার তাতে লাভ হবে না। আপনার ওয়েব পেজ কিংবা ওয়েব সাইটটিকে একটি দোকান হিসেবে কল্পনা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার। আপনার সাইটে যত বেশি ট্রাফিক আসবে তত বেশি লাভ। এই ট্রাফিক কিন্তু ঢাকা শহরের ট্রাফিক না! এখানে ট্রাফিক বলতে সাইটের ভিজিটরের সংখ্যা বোঝানো হয়েছে। এটা শুধু ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলেই সীমাবদ্ধ নয়। ধরুন, আপনার ব্যক্তিগত একটি সাইট রয়েছে। সেটিও শুরুর দিকে অবস্থান করলে স্বভাবতই আপনার ব্রান্ডিং বাড়বে। বর্তমান যুগ হচ্ছে সেলফ ব্র্যান্ডিং এর যুগ। তাহলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের উপকারিতা হারে হারে টের পাচ্ছেন। চলুন দেরি না করে জেনে নেই কি করলে সার্চ ইঞ্জিনের শুরুর দিকে গুগল কিংবা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন আপনার সাইটটিকে শুরুতে অবস্থান দিবে।

অপটিমাইজেশন মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। অনপেজ অপটিমাইজেশন অফপেজ অপটিমাইজেশন। গুগল , বিং সহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো তাদের অ্যালগোরিদম এ চেঞ্জ আনার পরে অন পেজ অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গুগলের পাণ্ডা, পেঙ্গুইন আসার পর তো ব্যাপক একটা পরিবর্তন এসেছে। গুগল বট তো এখন ক্রাউল করার সময় অনেক খুঁটি নাটি ভুল দেখে। ও হ্যাঁ, গুগল বট হচ্ছে ওয়েব সাইট ক্রাউল বা সার্চ করে দেখার একটি ইঞ্জিন। এই বট সাইটে কোন ফল্ট পেলে সাইটটিকে খুব জোরে কিক আউট করে অনেক দূরে কোথাও সরিয়ে দেয় তখন আর সাইটটিকে শুরুতে খুঁজে পাওয়া যায় না। গুগল বহুল ব্যবহৃত তাই ম্যাক্সিমাম যায়গায় আমি এটি দিয়েই উদাহরণ দিবো। যাহোক, গুগল ক্রাউল করার সময় যে সমস্ত বিষয়াদি দেখে অনপেজ অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে তা নিম্নরূপঃ

onpage optimization→ওয়েব সাইটের টাইটেল বা নাম
→ওয়েব সাইটের মেটা ডেসক্রিপশন
→ওয়েব সাইটের মেটা কি-ওয়ার্ড ট্যাগ
→ওয়েব সাইটে ব্যবহৃত ছবি গুলোর টাইটেল বা নাম
→ওয়েব সাইটে ব্যবহৃত ছবি গুলোর অল্ট ট্যাগ
→ওয়েব সাইটে ব্যবহৃত ছবি গুলোর ক্যাপশন
→ওয়েব সাইটের বিভিন্ন পেজের মধ্যে আন্তঃ ও বহিঃ সংযোগ
→সংযোগকৃত শব্দসমূহ ইত্যাদি…

 

এগুলোর পাশাপাশি অনপেজের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে-

হেডিং ট্যাগ, কী-ওয়ার্ড কনসিন্টেন্সি, সংযোগকৃত ছবি ডু ফলো বা নো ফলো কিনা, ব্রোকেন লিংক, ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ (www) রিসল্ভ ও ক্যানোনিক্যাল ইস্যু ফিক্সড করা, রোবট টেক্সট, সাইটম্যাপ আছে কিনা, ব্লোকিং ফ্যাক্টর, সাইটের স্পীড, মোবাইল সহ অন্যান্য ডিভাইস কম্পিটিট্যাবল কিনা, সিকিউর কেমন, এইচ টি টি পি সিকিউর কিনা, ইনলাইন কোডিং, সিএসএস ফ্লেক্সিবল কেমন, সাইট রেস্পন্সিভ কেমন, সার্ভার আপ টাইপ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সব ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়ে পরবর্তীতে বিষদ ব্যাখা দিবো যদি এই ফিল্ডে কাজ করতে আগ্রহী হোন তাহলে।

আসুন, এবার অফপেজ এসইও এর কিছু বিষয় জেনে নেই- 

অফপেজের ফাস্ট অ্যান্ড ফরমোস্ট কাজ হচ্ছে ফেসবুক, গুগলপ্লাস সহ যত সোশ্যাল সাইট আছে সেগুলোর সাথে সাইটটিকে সংযুক্ত করে দেয়া। পাশাপাশি সাইটের জন্য প্রচুর ভালো কিছু ব্যাকলিঙ্ক করা। কোরা ইয়াহু আন্সার সাইটসহ অন্যান্য কোয়াশ্চান আন্সার সাইটে প্রশ্ন করে বা উত্তর দিয়ে সাথে সাইটটিকে সংযুক্ত করে দেয়া। অফ পেজ এসইও কাজের ধরনগুলো নিম্নরূপঃ

√ সোশ্যাল সাইট তৈরিoffpage seo
√ প্রশ্ন উত্তর সাইট
√ বিজনেস রিভিও
√ সার্চ ইঞ্জিন সাবমিশিন
√ ডিরেকটরি সাবমিশন
√ আর্টিকেল সাবমিশন
√ ফটো শেয়ারিং
√ ভিডিও প্রোমোশন
√ ফোরাম পোস্টিং
√ সোশ্যাল বুক মার্কিং
√ লোকাল লিস্টিং ও ইয়েলো পেজ
√ ডকুমেন্ট শেয়ারিং
√ ক্লাসিফাইড সাবমিশন
√ ওয়েব টু সাবমিশন
√ ব্লগিং
√ ডিরেক্টরিস সাবমিশন
√ সোশ্যাল শপিং নেটওয়ার্ক
√ প্রেস রিলিজ
√ গেস্ট ব্লগিং
√ ব্লগ কমেন্টিং ইত্যাদি

 

এত বিশদ লিস্ট দেখে অনেকেই ভাবছেন হয়তো এত কাজ কিভাবে করবো? আপনাকে এসবের সবকিছুই যে করতে হবে সেটা বাধ্যতামূলক না। আপনার সাইটের ধরন অনুযায়ী এবং আপনার কম্পিটিটর কেমন স্ট্রং সে অনুযায়ী অফপেজের কাজ গুলো করতে হবে। কিন্তু অনপেজের কাজ গুলো সার্চ ইঞ্জিন ভিসিবল করার আগেই আপনাকে শেষ করতে হবে।

সর্বোপরি, একটি সাইটকে র‍্যাংক করাতে গেলে সর্বপ্রথম  অনপেজের কাজ শেষ করে কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করা লাগবে। আমরা কি কী-ওয়ার্ড দিয়ে সাইটটিকে রাংক করাতে চাচ্ছি সেই অনুযায়ী রিসার্চ হচ্ছে কী-ওয়ার্ড রিসার্চ। কী-ওয়ার্ড রিসার্চ এর ক্ষেত্রে কী-ওয়ার্ড এর মাসিক সার্চ ভলিউম, সিপিসি রেট,ডোমেইন অথোরিটি, পেজ অথোরিটি , ব্যাকলিঙ্ক,  কম্পিটিটর কারা, কী-ওয়ার্ড ডিফিকাল্টি কেমন এ সমস্ত বিষয়াদি বিবেচনা করে করতে হয়। কী-ওয়ার্ড রিসার্চ ভালো ভাবে করতে পারলে এসইও এর অর্ধেক কাজ হয়ে যায়। বাকি কাজ বলতে অফপেজের কাজগুলো করলেই হয়।

আজকের পর্বে এখানেই অব্যাহতি দিচ্ছি। পরবর্তী পর্ব গুলোতে কী-ওয়ার্ড রিসার্চ পদ্ধতির পাশাপাশি একটি সাইটকে কিভাবে র‍্যাংক করাতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত থাকছে। এছাড়া এসইও এর টুলস সম্পর্কেও অবহিত করবো ইনশাল্লাহ।কিন্তু পুরোটাই নির্ভর করবে আপনাদের আগ্রহের উপর। কমেন্ট করে আমাদেরকে আপনাদের অভিমত জানান। ভালো থাকুন সবাই।

এস আহমেদ ভোর

 

Similar Posts:

    None Found

Facebook Comments