প্রশ্ন : আমি ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যমে দেখেছি, রোগ বা অসুস্থতা আল্লাহর একটি রহমত। এই কথা কি সঠিক?

উত্তর : আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা কোরআনের মধ্যে এরশাদ করেছেন, ‘ইয়া আইয়্যুহাল ইনসানু মা গররাকা বি রাব্বিকাল কারিম। আল্লাজি খলাকা কা ফাসাওয়া কাফাআদালাক ফি আয়্যিসুরাতিম মাসা আরক্কাবাক।’ এ আয়াতের মধ্যে আল্লাহতায়ালা মানুষের দিকে লক্ষ করে বলছেন, ‘হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহিমান্বিত প্রতিপালকের ব্যাপারে প্রতারিত করছে?’

মানুষ স্বাভাবিকভাবে যখন সুস্থ-সবল থাকে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে ভুলে যায়। মানুষ প্রতারিত হয় আল্লাহর ব্যাপারে। যেভাবে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার কথা, যেভাবে আল্লাহর বিধানের আনুগত্য করার কথা, যেভাবে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী নিজের জীবন পরিচালনা করার কথা, ঠিক সেটা হয় না। ফলে আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা মাঝেমধ্যে তাকে কিছু পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। তখন এটি রহমত হয়। তখন সে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারে যে, আমি আসলে কি সুস্থ মানুষ ছিলাম? আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কত বড় অনুগ্রহ করেছিলেন আমার ওপর। সে অনুগ্রহের কথা যখন তার উপলব্ধির মধ্যে আসে, সে তখন সত্যিকার আল্লাহর বান্দা হতে পারে। আল্লাহতায়ালার সত্যিকার শোকর গুজার বান্দা হতে পারে। যেভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কথা, ঠিক সেভাবে আল্লাহতায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। এ জন্য এটি রহমত।

রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে সম্ভবত তাহজিবুল হিরিয়ার মধ্যে একটি হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) এ ধরনের অসুস্থতার ব্যাপারে বলেছেন যে, গুনাহগুলো ক্ষমার কারণ হয়। রহমত শব্দের আরেকটি ব্যাখ্যা এখানে এভাবে আসতে পারে যে, এই অসুস্থতা গুনাহগুলো ক্ষমার কারণ হয়ে যায়। যেহেতু গুনাহগার বান্দা অসুস্থতার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সত্যিকার তওবা করতে সক্ষম হয়, যা মূলত অন্যান্য ব্যক্তির পক্ষে সম্ভবপর হয় না বা অন্য ব্যক্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুগ্রহের বিষয়ে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় না। ফলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Similar Posts:

    None Found

Facebook Comments

খুবই সাধারণ সাধাসিধে একজন মানুষ। টেকনোলজি ভালবাসি , ভালবাসি নতুন কিছু শিখতে। আর বিশ্বাস করি শেখানটাই শেখার সবথেকে ভালো মাধ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.