ছোট্ট ছোট্ট গল্প মাঝে মাঝে মস্তিষ্কে অসম্ভব রকমের আলোড়ন তোলে।
আজ একটা গল্প বলতে চাই।
কোন একটা বিখ্যাত মিউজিয়ামে সান্তিয়াগো নামে একটা ছেলে গেলো এবং একজন জ্ঞানী লোককে জিজ্ঞেস করলো যে সে কিভাবে সুখী হতে পারি বা কিভাবে সুখী হওয়া যায়?
তো জ্ঞানী লোকটা বলল যে, আমার হাতে খুব সময় নাই, তুমি একটা কাজ করো, আমি তোমাকে একটা চামচ দিচ্ছি আর চামচে দু ফোঁটা তেল দিচ্ছি। তুমি পুরো মিউজিয়াম ঘুরে ঘুরে দেখো, তবে সাবধান! চামচের তেল যেন না পড়ে।
তো সান্তিয়াগো পুরো মিউজিয়াম ঘুরতে লাগলো, এবং সে জ্ঞানী লোকটির কথামতো চামচের তেল খুব খেয়াল করে আগলে রাখলো।
মিউজিয়াম ঘুরে সে যখন জ্ঞানী লোকটির কাছে এলো তখন জ্ঞানী লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করলো, ” তুমি যে পুরো মিউজিয়াম ঘুরলে, মিউজিয়ামে অনেক সুন্দর পেইন্ট ছিল, মার্বেল ছিল, অনেক পুরাকীর্তি ছিল, দেখার মত আরও অনেক কিছু ছিল। তুমি কি ওগুলো দেখেছ?
তো সান্তিয়াগো উত্তর দিলো, “না, আমি কিছুই দেখিনি”।
ভালো, অনেক ভালো ।তবে এটা একটা ভুল। তুমি দুফোটা তেলের জন্য এত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারলে না!  এবার যাও আবার ঘুরে ঘুরে সব কিছু দেখে আসো। তো কথামত সান্তিয়াগো সব কিছু ঘুরে ঘুরে দেখল এবং মিউজিয়ামের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করলো।
ফিরে আসার পর আবার লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করলো, “চামচে তেল কি আছে? “
এবার সে দেখল, তার চামচের তেল কোথাও নিজের অজান্তে সে ফেলে দিয়েছে।
তো বাস্তবে আমরা বিশাল সংখ্যক মানুষেরা আমাদের পারিবারিক জীবন আর বাহ্যিক জিবনের মতো দুইটা  জিনিসের মধ্যে ব্যালান্স করতে পারি না।
আমরা যদি আমাদের সারাদিনের কাজকরম ভালোভাবে করে দিনশেষে নিজের ঘরের বা আশপাশের মানুষের খেয়াল না রাখতে পারি, যদি সম্পর্ক বিজায় না রাখতে পারি, তাহলে আসলে আমরা সুখী হতে পারবো না। আবার শুধু পরিবারের মা আশপাশের মানুষের চিন্তায় নিজেকে মগ্ন রাখলে নিজের পেটে ভাত পড়বে না। তাই ফোকাস শুধুমাত্র একদিকে করলেই হবে না। একটা ভালো ব্যালান্সিং থাকতে হবে।
মুলত এই গল্পটি ” দ্যা আলকেমিস্ট ” নামক বই থেকে নেওয়া।
বইটি পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করে  পড়তে পারেন।

Similar Posts:

    None Found

Facebook Comments

খুবই সাধারণ সাধাসিধে একজন মানুষ। টেকনোলজি ভালবাসি , ভালবাসি নতুন কিছু শিখতে। আর বিশ্বাস করি শেখানটাই শেখার সবথেকে ভালো মাধ্যম।