উইন্ডোজ ডেস্কটপে মাউস দিয়ে রাইট ক্লিক করলে Refresh নামে একটি অপশন পাওয়া যায়।
কম্পিউটার খোলার পর ডেস্কটপ দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে বেশির ভাগ ইউজার রাইট ক্লিক করে ‘রিফ্রেশ’করতে শুরু করেন।
‘এফ ফাইভ’ বাটন প্রেস করে কম্পিউটারকে আরও দ্রুত এবং সচল করার চেষ্টা প্রায় সকলেই করেন।
কিন্তু এর কাজটি কী? রিফ্রেশ করলে কি ‘র‌্যাম’ ফ্রি হয় বা কম্পিউটার কি আদৌ ফাস্ট হয় অথবা আরও সচল হয়?

উত্তর, না। এর একটিও হয় না।র‌্যাম-এর সঙ্গে যেমন এর কোনও সম্পর্ক নেই, তেমনই কম্পিউটারের পারফর্ম্যান্সের সঙ্গেও এর তেমন সম্পর্ক নেই। তবে যে কোনও ব্রাউজারের ক্ষেত্রে F5 বাটন ক্যাশ মেমরি পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
তা হলে কী হয় রিফ্রেশ করলে?

সহজভাবে বলতে গেলে রিফ্রেশ ডেস্কটপকে redraw করে।
ডেস্কটপকে একটা ফোল্ডারের সাথে কল্পনা করা যায়। প্রত্যেকটি ফোল্ডারের কাজ হচ্ছে যখনি সে কোন পরিবর্তন দেখবে তখনি স্বয়ংক্রিয় ভাবে এটি রিফ্রেশ নিবে, যাতে আপডেট হওয়া ফাইল গুলো দেখা যায়। কিন্তু কোন কারনে যদি এই স্বয়ংক্রিয়তা বাধাগ্রস্ত হয় তখনি আমাদের ম্যানুয়ালি রিফ্রেশ করতে হয়।

অর্থাৎ ডেস্কটপে বা কোনো ফোল্ডারের ভিতর কোনো ফাইল/ফোল্ডারে পরিবর্তন করা হলে তা যদি ঠিক মত দেখা না যায় বা দেখতে অশুবিধা হয় তখন রিফফ্রেশ করলে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

এই রিফ্রেশ ফিচার টি উইন্ডোজ এক্সপিতে আসলেই দরকারী ছিল সেইসব যায়গায় যেখানে এক্সপ্লোরার নিজে নিজেকে আপডেট করতে পারত না। কিন্তু উইন্ডোজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এখন এই কাজ করে থাকে।

রিফ্রেশ অপশনটি মূলত অপারেটিং সিস্টেম রিফ্রেশ করে না বা আপনার পিসিকে স্মুথলি চালানোর জন্য র‍্যামকে পরিষ্কার করে দেয় না।

আমি যদি পয়েন্টআউট করি তবে, নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে আপনার ডেস্কটপটি ম্যানুয়ালি রিফ্রেশ করতে হবেঃ
  • যদি আপনার কোন created, moved, deleted, renamed or saved ফাইল আপনি ডেস্কটপে দেখতে না পান ।
  • আপনাকে আপনার ডেস্কটপের আইকনগুলিকে re-align পুনরায় সারিবদ্ধ করতে হয়।
  • আপনি যদি দেখেন যে আপনি আপনার ডেস্কটপের আইকন ব্যবহার করতে পারছেন না ।
  • ডেস্কটপে কিছু 3rd-party অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা তৈরি করা ফাইলগুলি যদি দেখতে সমস্যা হয়।
  • এবং এরকম কিছু সময় যখন আপনার ডেস্কটপের কন্টেন্ট বা ফোল্ডারে আপনি আপনার ইচ্ছেমত পরিবর্তন আনতে পারছেন না।

ডেস্কটপ বা ফোল্ডারটি রিফ্রেশ করলে ম্যানুয়ালি তার বিষয়বস্তুগুলি প্রথমে ফোল্ডার, তারপর ফাইল বর্ণানুক্রমিক আকারে   re-order করতে পারে।
এটা পিসি দ্রুত করে না। এটি কেবলমাত্র ফোল্ডারে ফাইল এবং আইকন রিফ্রেশ করে।

এখন আসি লিনাক্সে কেন রিফ্রেশ করার প্রয়োজন পড়ে না সেই বিষয়ে।

যেহেতু লিনাক্সে ফাইল নোটিফিকেশন সিস্টেম (inotify) বা inode notify সিস্টেম আছে যেটি একটি লিনাক্স কার্নেল সাবসিস্টেম যা ফাইল সিস্টেমের পরিবর্তনকে extend করে এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে সেই পরিবর্তনগুলির একটা প্রতিবেদন পাঠায়। আর তাই রিফ্রেশ লিনাক্সে আসলে দরকার পড়ে না।

তার পরেও লিনাক্সে রিফ্রেশ নেই সে কথা একদম সঠিক  নয়, রিফ্রেশ করাকে যদি আপনি ডেস্কটপ redrawing মনে করেন।
এটি লিনাক্সে অনেক প্রয়োজনীয় নয় কিন্তু প্রয়োজন হলে, GNOME ডেস্কটপে আপনি কমান্ড বক্সটি খুলে ALT + F2 ব্যবহার করতে পারেন এবং তারপরে r টাইপ করুন এবং এন্টার টিপুন। ডেস্কটপটি ডিসপ্লে সম্পর্কিত সমস্যা গুলোর সমাধান করবে।

 

কম্পিউটার ফার্স্ট করে এমন আরও কিছু ভুল ধারনাঃ

অনেকেই আপনাকে কম্পিউটার ফার্স্ট করার জন্য ট্রি কমান্ড ব্যবহার করতে বলবে।
আসলে আমরা অন্তত যারা কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়ি বা ডাটা স্ত্রাকচার সম্পর্কে ধারনা আছে তাদের অন্তত জানা উচিত ট্রি জিনিসটা কি।
যখন আপনি TREE কমান্ডটি ব্যবহার করেন তখন প্রতিটি ডিরেক্টরীর নাম তার মধ্যে থাকা সাবডিরেক্টরিগুলির নাম সহ প্রদর্শিত হয়। TREE কমান্ডটি ASCII ক্যারেক্টার ব্যবহার করে ডিরেক্টরির একটি গ্রাফিক্যাল representation দেখায়।
উদাহরণস্বরূপ, সি ড্রাইভের ডিরেক্টরী স্ট্রাকচারটি প্রদর্শন করতে নিচের কমান্ড টি ব্যবহার করতে পারেনঃ [c:\] tree c:\

তো বুঝতেই পারছেন এটি দিয়ে কোনো ধরনের রিফ্রেশ হয়না। যদি হতও তাও তা করে আমাদের লাভ ছিলনা!

আরও একটি ধারনা আছে যে টেম্পোরারি ফাইল ডিলিট করলে বুঝি পিসির স্পিড আপ হয়।


টেম্পোরারি ফাইল মূলত খুব কম জায়গা নেয় এবং এটি অবস্থান করে আপনার হার্ডড্রাইভে । যেহেতু এটি র‍্যামে অবস্থান করে না আর এর সাইজও খুব বড় না আর এর জন্য যদি আপনার হার্ডড্রাইভ ভরে না যায় তবে এটি কীভাবে আপনার কম্পিউটার কে স্লো করে বা এটি ডিলিট করলে কীভাবে আপনার পিসি দ্রুত হবে আমার বুজে আসে না ।

যাই হোক বহুদিন ধরে এই কু-ধারনা গুলো আমিও পোষণ করছিলাম, আর এতদিনে অভ্যাস করে ফেলেছি। তবে এগুলো জানার পর আমি চেষ্টা করবো এই অভ্যাস কে অনভ্যাসে রুপান্তর করতে আর আমার আশেপাশের মানুষ গুলোকে সচেতন করতে। আপনিও পারেন শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিতে, আরও অনেকের ভুল ভাঙ্গাতে।

আজ এ পর্যন্তই। ভুল-ভ্রান্তি থাকলে অবশ্যই গঠনমূলক সমালোচনা ও সংশোধনী আশা করছি।

আশা করি এই লিখাটি টি থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন।

এরকম আরও তথ্য পেতে  “শখের স্কুলের” সাথেই থাকুন।

লাইক দিন “শখের স্কুলের”  ফেসবুক পেজে

জয়েন করুন“শখের স্কুলের”  ফেসবুক গ্রুপে

টিউনারকে ফলো করুন>> 

অসংখ্য ধন্যবাদ।

জ্ঞান ভাগাভাগিতে কোনো কার্পণ্য নয়! বাংলা ভাষার কনটেন্ট সমৃদ্ধ করার এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে শেয়ার করুন। 

Similar Posts:

    None Found

Facebook Comments

খুবই সাধারণ সাধাসিধে একজন মানুষ। টেকনোলজি ভালবাসি , ভালবাসি নতুন কিছু শিখতে। আর বিশ্বাস করি শেখানটাই শেখার সবথেকে ভালো মাধ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.